যেভাবে বদরনেতা থেকে জনপ্রতিনিধি নিজামী
"A blog about social networking and web design." Health Tips For All, Entertainment, News. Its Fine and Lovely.
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর করা আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে অস্বীকার করা শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধী মতিউর রহমান নিজামী এদেশেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। যেভাবে পাবনার এক মাদ্রাসার ছাত্র বদর নেতা থেকে মন্ত্রী হয়ে উঠলেন সেই পথচলায় আছে সহিংসতা, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মকে অস্বীকৃতি আর ধর্ম নিয়ে রাজনীতি। মুক্তিযুদ্ধ গবেষকরা বলছেন, ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পরের যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন সেখানে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের ক্ষমতায় আনার প্রচেষ্টাও ছিল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃত উপস্থাপনের অংশও ছিল এই অপচেষ্টা। ট্রাইব্যুনালে নিজামীকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘এটা বিশ্বাস করা খুবই কঠিন যে, সক্রিয়ভাবে যিনি বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন, তাকে এই প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আমাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, তৎকালীন সরকার কর্তৃক এই অভিযুক্তকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া একটা বড় ধরনের ভুল (ব্লান্ডার) ছিল। পাশাপাশি এটা ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ নারীর প্রতি ছিল সুস্পষ্ট চপেটাঘাত। এই লজ্জাজনক ঘটনা পুরো জাতির জন্য অবমাননাকর।’ মানবতাবিরোধী অপরাধী গোলাম আযমের উত্তরসূরি হিসেবে ২০০০ সালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আসা নিজামির জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩১ মার্চ, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামে। স্থানীয় বোয়ালমারি মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করা নিজামী কামিল পাস করেন ১৯৬৩ সালে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে। মাদ্রাসার ছাত্র থাকা অবস্থায় নিজামী ১৯৬১ সালে জামায়াতে ইসলামীর তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৬ থেকে তিন বছর পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর একাত্তরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন নিজামী। বাংলাদেশে ভূমিকম্প আঘাত হানা বিষয়ে মার্ক জুকারবার্গ যা বললেন ভূমিকম্পের ব্যপারে কোরআনে যা বলা আছে ১৯৭১ সালের মার্চে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে মূলত ছাত্রসংঘের কর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় আলবদর বাহিনী। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর নিজামীর বিচার শুরুর পর ২০১৪ সালে ট্রাইব্যুনাল তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। নিজামীর যুদ্ধাপরাধের নানা দালিলিক প্রমান রয়েছে। আলবদর গঠিত হওয়ার পর ২৩ শে এপ্রিল দৈনিক পাকিস্তানে ছাত্রসংঘের সভাপতি নিজামীর একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয় যাতে বলা হয়, ‘আলবদর একটি নাম, একটি বিস্ময়। আলবদর একটি প্রতিজ্ঞা। যেখানে মুক্তিবাহিনী সেখানেই আলবদর। যেখানে দুস্কৃতকারী সেখানেও আলবদর। ভারতীয় চরদের কাছে আলবদর সাক্ষাৎ আজরাইল।’ স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের পর বাংলাদেশ সরকার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করলে তিনিও দৃশ্যের বাইরে চলে যান। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তেনের সুযোগ নিযে জিয়াউর রহমানের আমলে দেশে ফেরার সুযোগ পান জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধকালীন আমির গোলাম আযম। স্বাধীন বাংলায় প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফেরে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলটি। ওই সময় ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জামায়াতের ঢাকা মহানগর শাখার আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী। এরপর ১৯৮৩ সালে পদোন্নতি পেয়ে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ওই পদে থেকে দলের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পান নিজামী। গোলাম আযম আমিরের পদ থেকে অবসরে গেলে ২০০০ সাল থেকে নিজামীর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় জামায়াতে ইসলামী। পাবনা-১ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নিজামীকে ২০০১ সালে মন্ত্রিত্ব দেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া। প্রথমে দুই বছর কৃষি মন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে সরকারের পরের তিন বছর ছিলেন শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্বে। শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজামী ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার জন্য পাচারের পথে চট্টগ্রামে আটক হওয়া ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচারের মামলায় জাড়িয়ে পড়েন। এই মামলার রায়ে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে নিজামীও রয়েছেন।কন্টেইনার ডিপোর ইজারা নিয়ে গেটকো দুর্নীতি মামলারও আসামি সাবেক শিল্পমন্ত্রী নিজামী
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর করা আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে অস্বীকার করা শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধী মতিউর রহমান নিজামী এদেশেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। যেভাবে পাবনার এক মাদ্রাসার ছাত্র বদর নেতা থেকে মন্ত্রী হয়ে উঠলেন সেই পথচলায় আছে সহিংসতা, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মকে অস্বীকৃতি আর ধর্ম নিয়ে রাজনীতি। মুক্তিযুদ্ধ গবেষকরা বলছেন, ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পরের যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন সেখানে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের ক্ষমতায় আনার প্রচেষ্টাও ছিল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃত উপস্থাপনের অংশও ছিল এই অপচেষ্টা। ট্রাইব্যুনালে নিজামীকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘এটা বিশ্বাস করা খুবই কঠিন যে, সক্রিয়ভাবে যিনি বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন, তাকে এই প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আমাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, তৎকালীন সরকার কর্তৃক এই অভিযুক্তকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া একটা বড় ধরনের ভুল (ব্লান্ডার) ছিল। পাশাপাশি এটা ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ নারীর প্রতি ছিল সুস্পষ্ট চপেটাঘাত। এই লজ্জাজনক ঘটনা পুরো জাতির জন্য অবমাননাকর।’ মানবতাবিরোধী অপরাধী গোলাম আযমের উত্তরসূরি হিসেবে ২০০০ সালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আসা নিজামির জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩১ মার্চ, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামে। স্থানীয় বোয়ালমারি মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করা নিজামী কামিল পাস করেন ১৯৬৩ সালে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে। মাদ্রাসার ছাত্র থাকা অবস্থায় নিজামী ১৯৬১ সালে জামায়াতে ইসলামীর তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৬ থেকে তিন বছর পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর একাত্তরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন নিজামী। বাংলাদেশে ভূমিকম্প আঘাত হানা বিষয়ে মার্ক জুকারবার্গ যা বললেন ভূমিকম্পের ব্যপারে কোরআনে যা বলা আছে ১৯৭১ সালের মার্চে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে মূলত ছাত্রসংঘের কর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় আলবদর বাহিনী। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর নিজামীর বিচার শুরুর পর ২০১৪ সালে ট্রাইব্যুনাল তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। নিজামীর যুদ্ধাপরাধের নানা দালিলিক প্রমান রয়েছে। আলবদর গঠিত হওয়ার পর ২৩ শে এপ্রিল দৈনিক পাকিস্তানে ছাত্রসংঘের সভাপতি নিজামীর একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয় যাতে বলা হয়, ‘আলবদর একটি নাম, একটি বিস্ময়। আলবদর একটি প্রতিজ্ঞা। যেখানে মুক্তিবাহিনী সেখানেই আলবদর। যেখানে দুস্কৃতকারী সেখানেও আলবদর। ভারতীয় চরদের কাছে আলবদর সাক্ষাৎ আজরাইল।’ স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের পর বাংলাদেশ সরকার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করলে তিনিও দৃশ্যের বাইরে চলে যান। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তেনের সুযোগ নিযে জিয়াউর রহমানের আমলে দেশে ফেরার সুযোগ পান জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধকালীন আমির গোলাম আযম। স্বাধীন বাংলায় প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফেরে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলটি। ওই সময় ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জামায়াতের ঢাকা মহানগর শাখার আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী। এরপর ১৯৮৩ সালে পদোন্নতি পেয়ে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ওই পদে থেকে দলের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পান নিজামী। গোলাম আযম আমিরের পদ থেকে অবসরে গেলে ২০০০ সাল থেকে নিজামীর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় জামায়াতে ইসলামী। পাবনা-১ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নিজামীকে ২০০১ সালে মন্ত্রিত্ব দেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া। প্রথমে দুই বছর কৃষি মন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে সরকারের পরের তিন বছর ছিলেন শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্বে। শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজামী ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার জন্য পাচারের পথে চট্টগ্রামে আটক হওয়া ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচারের মামলায় জাড়িয়ে পড়েন। এই মামলার রায়ে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে নিজামীও রয়েছেন।কন্টেইনার ডিপোর ইজারা নিয়ে গেটকো দুর্নীতি মামলারও আসামি সাবেক শিল্পমন্ত্রী নিজামী

Comments