‘রিমান্ডে যেন না নেয় আর’
স্টালিন সরকার : ‘আব্বার জন্য দো’য়া করবেন; রিমান্ডে যেন না নেয় আর।’ বাক্যটি উচ্চারণ করেই কিছুক্ষণ নীরব হয়ে রইলো পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা ও নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কারাবন্দি এটিএম কামালের ছেলে সোহান। অতঃপর নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, ‘আব্বাকে গ্রেফতারের পর দুই/তিন দফায় রিমান্ডে নিয়েছে। আবার ২২, ২৩, ২৪, ২৫ ফেব্রুয়ারী আদালতে হাজির করার কথা। কি হয় জানি না। রিমান্ডের ভয়ে আমরা আতঙ্কিত। আমার এক বোন আমেরিকায় আরেক বোন থাকে দুবাইয়ে। তারা প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বিগ্ন থাকেন। মা’র অবস্থাও ভাল না; খাওয়া-দাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। রিমান্ডের কথা শুনলে বিদেশে থাকা দুই বোন বাঁচবে না। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।’ শুধু নারায়ণগঞ্জের কামালের পুত্র সোহান নয়, ২০ দলীয় জোটের গ্রেফতার হওয়া হাজার হাজার নেতানেত্রীর পুত্রকন্যাদের একই অবস্থা। অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে নীরবে চোখের পানি ফেলছেন। গ্রেফতার হওয়া পরিবারের সদস্যরা যাতে ভাল থাকে সে জন্য দোয়া দরুদ পড়ছেন। বন্দী হওয়া নেতানেত্রীদের মধ্যে যাদের সন্তান, আত্মীয়-স্বজন বিদেশ বিভূঁইয়ে থাকেন তাদের যন্ত্রণা আরো বেশি। কামালের পুত্রের প্রশ্ন আমার আব্বাকে আর কতদিন নির্যাতন করা হবে? বিদেশে থাকা দুই বোনের হাহাকার থামাবে কে?
টানা অবরোধ এবং ধারাবাহিক হরতালে সারাদেশের জীবনযাত্রা বিপন্ন হলেও রাজধানীতে যানবাহন চলাচল প্রায় স্বাভাবিক। সীমিত আয়ের যারা বাসে চলাফেরা করেন তারা অতি সাবধানী। ভাষা দিবসে গতকাল চিটাগাং রোডে বাসে উঠতেই চোখে পড়লো বাসের সবগুলো জানালা বন্ধ। জনৈক মহিলা একটা ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে বসে রয়েছেন। তার সামনে জানালার একটু ফাঁক থাকায় কয়েকজন যাত্রী চিৎকার করলেন ‘জানালা বন্ধ করুন’। এক যাত্রী বললেন, খোলা জানালা মানেই পেট্রোলবোমার আতঙ্ক। তাই সবাই জানালা এঁটে টাইট হয়ে বসে আছি। আতঙ্কের জেলা নারায়ণগঞ্জের এই এরিয়া। ৭ খুনের আগে পরে আরো অসংখ্য অপহরণ আর খুনের ঘটনা ঘটেছে প্রাচ্যের ডা-ি খ্যাত রাজধানীর পাশের এই জেলায়। ভাড়া নিতে আসা কন্ডাক্টরের সঙ্গে গল্প জুড়ে দিই: ‘এই পথে গাড়ি পুড়েছে?’ হারুন নামের কন্ডাক্টার বলে, ‘পুড়ছে না আবার? অবরোধে বেশ কয়েকটি বাস-ট্রাক পুড়ছে।’ রায়েরবাগ, শনির আখড়া, বিশ্বরোড সবখানেই বাসে টেম্পুতে আগুন দেয়া হয়েছে। তবে বড় ঘটনা ঘটেছে যাত্রাবাড়ী ডেমরা রোডের কাজলায়। আদমজী থেকে এই বাসের গন্তব্য গুলিস্তান। সিটিং হলেও যাত্রীদের ভাষায় চিটিং বাস; রাস্তায় যাত্রী উঠা-মানা করছে। জিজ্ঞেস করি, ‘এই দেড় মাসে কয়টি ঘটছে?’ ‘কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে’ জবাব দেয় ছেলেটি। তাকে বললাম, ‘ভয় করে না; পেট্রোল বোমার ভয় থাকার পরও বাসে থাক?’ ‘ভয় করলে তো প্যাট ভরবো না স্যার। ভয়ডর থাকলেও কাজ করতে হয়’। কন্ডাক্টর ভাড়া দিয়ে এগিয়ে যেতেই পাশের সারির এক যাত্রী ‘ভাইজানের পরিচয়?’ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়। সহযাত্রী কানে কানে কি যেন বললেন। বুঝেছি বলেই, রাজনীতি নিয়ে আলাপ শুরু করে দিলেন। ‘ভাই এভাবে আর কতদিন চলবে? দুই নেত্রীতো জনগণের রাজনীতি করেন না। তারা কেউ ক্ষমতা ধরে রাখতে কেউ ক্ষমতায় যেতে পাগল হয়ে গেছেন। দাম্ভিকতা অহংকার এমন পর্যায়ে গেছে যে দুই নেত্রীকে একসঙ্গে তুলনা করলে এক নেত্রী ক্ষিপ্ত হন।’
বাস চলছে ঢাকার দিকে। যাত্রীদের প্রায় সবাই কথা বলতে চাচ্ছেন। একজন বৃদ্ধ বলেন, দুই নেত্রীর কথা বলছেন। রাজনীতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশ নিয়ে এক বছর নীরব থাকার পর হঠাৎ করে নড়েচড়ে বসেছে। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, জাতিসংঘ থেকে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের জন্য একযোগে আওয়াজ তোলা হচ্ছে। সংলাপের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ২০ দলীয় জোট কার্যত নতুন নির্বাচনের এক দফা দাবিতে দেড় মাস ধরে চলা আন্দোলনের সফলতা বলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করতে পেরেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দুটো সংস্থা (জাতিসংঘ, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট) এবং একটি দেশ (আমেরিকা) বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য সরকারের ওপর ‘চাপ’ সৃষ্টি করেছে। সরকারের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি যে হয়েছে তা মন্ত্রী-এমপিদের লাগামহীন কথাবার্তায় বোঝা যায়। পাশে বসা যাত্রী খেকিয়ে উঠলেন। ‘আরে রাখেন বিদেশী চাপ। জীবন চলছে না। এ অবস্থার অবসান হবে কবে তাই বলেন।’ আগের কথা বলা যাত্রী আবার শুরু করলেন। ‘বৃহস্পতিবার বাংলাভিশনের মেগা টকশো দেখেছেন? মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব ড. সাদ’ত হুসাইন কী বলেছেন? তিনি বলেছেন, ‘নিজেরা সমঝোতা না করলে আন্তর্জাতিক মহলের চাপে সমঝোতা করতেই হবে। পরিস্থিতি দেখে এক সময় ক্ষমতাধরেরা ভদ্রভাবে হাত ধরে মোচড় দেবেন এবং মুখে বলবেন আপনারা খুব ভাল। সংলাপ করে সমঝোতা করেন। মুখে বলবেন ভাল এবং হ্যা-সেকের নামে হাতে মোচড় দেবেন। ওই মোচড়ের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতেই সংলাপে বসতে বাধ্য হবে। সরকার মিডিয়ায় একতরফা যা প্রচার করছে এবং বিদেশীদের যা বলছেন সেটা কী তারা বিশ্বাস করছে? না করেনি। ব্যবসায়ীরা কি ম্যাসেজ দিয়েছেন বিদেশীদের? সরকারের দাবি ও বক্তব্য একজন প্রতিমন্ত্রী বিদেশীদের কাছে অসার করে দিয়েছেন। পাশে বসা যাত্রী বললেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন দুই দলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন ‘পরিণতির’ কথা চিন্তা করে কাজ করুন। কূটনৈতিক মহলকে অবাক করেন সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান দান প্রিদা। ঢাকা সফরে প্রথম দু’দিন মুখ বুঝে থাকলেও বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের একটি বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে ডেইলি স্টার পত্রিকা হাতে নিয়েই গণমাধ্যমের সামনে মন্ত্রীর নাম ধরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। কূটনীতিতে এ ধরনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না। এ ঘটনার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পিছু হটতে বাধ্য হয়। সংশোধিত বিবৃতি দিয়ে স্বীকার করেছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধি দল মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর জোর দিয়েছেন। যদিও তার আগের বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী বিপরীত কথাই বলেছিলেন। এরপর রাতে আরো কড়া বিবৃতিতে প্রতিনিধিদল জানায় বাংলাদেশের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের ‘অত্যাবশ্যকীয় উপাদান মানবাধিকার ও গণতন্ত্র’। সংলাপের প্রতিও দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানায় তারা। কয়েক ঘণ্টা পরই ওয়াশিংটন থেকে বিরোধী দলের সাথে সংলাপের জন্য সুস্পষ্ট আহ্বান আসে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির কাছ থেকে। বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী সাক্ষাৎ করতে গেলে তারা প্রায় অভিন্ন ভাষায় সংলাপের আহ্বান জানান। আরো একধাপ এগিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক কয়েকদিন আগে জানান বাংলাদেশের ব্যাপারে জাতিসংঘ প্রয়োজনীয় ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ নেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে সংলাপের অনুরোধ জানিয়েছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরো মায়াদু। কাজেই জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব বুঝতে আর কারো বাকি নেই। সংলাপে বসার আহ্বানের পাশাপাশি তারা অবশ্য রাজনৈতিক সহিসংতা বন্ধেরও আহ্বান জানাচ্ছেন। অবশ্য বিএনপি আন্তর্জাতিক তদন্তটীম গঠন করে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এখন রাজনীতি প-িতদের বুঝতে বাকি থাকে না যে চাপটা আসলে সংলাপে বসার জন্যই। আর দিল্লীর কথা বলছেন? মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঢাকা সফর কী বিজেপির ঝানু পলিটিশিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভালভাবে নিয়েছেন? পশ্চিমবঙ্গে বাম-কংগ্রেস শেষ। রাজ্য সরকারের ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্ব এখন বিজেপি আর তৃণমূলের। অতএব কয়েকদিন যাক বুঝবেন।
বাস ততক্ষণে রায়েরবাগে এসে গেছে। দু’জন যাত্রী নেমে যাওয়ার পর তিনজন উঠলেন। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কূটনীতি ইত্যাদি কথা শুনতে শুনতে বিরক্তি প্রকাশ করে এক যাত্রী বললেন, ভাই রাখেন আপনার জাতিসংঘ, ইউরোপীয় সংসদ আর যুক্তরাষ্ট্র। দেশের কথা জানান। এই অবস্থা শেষ হবে কবে? ’৯০ এর পর এই প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়েছেন। শেখ হাসিনা ও এইচএম এরশাদ এক হয়ে গেছেন। অথচ জামায়াতের পাশাপাশি এখন বিএনপিকেও ‘সন্ত্রাসী’ দল হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এ কাজে রাষ্ট্রযন্ত্রগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএনপি আসলেই কী সন্ত্রাসী দল? প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগের দীর্ঘসময় কথা বলা যাত্রী বলেন, ইন্ডেপেন্ডেন্ট টিভির টকশোতে ড. আকবর আলী খানের বক্তব্য শোনেননি? তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তোলার চেষ্টা আহাম্মকী। দেশের ৩/৪ কোটি মানুষ বিএনপি করে। তারা সন্ত্রাসী এমন প্রচারণা বিশ্বের কেউ বিশ্বাস করবে না। আসলে গত বছরের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে ইউরোপ, আমেরিকা ও জাতিসংঘের অবস্থান কারো অজানা নেই। নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়া তো দূরের কথা, নির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানানোর স্বাভাবিক সৌজন্যও দেখায়নি ইউরোপ আমেরিকার প্রায় সব দেশই। পশ্চিমা দুনিয়া তখন নির্বাচনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু সংবিধান রক্ষার কথা বলে একটা নির্বাচন করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তখন প্রেক্ষাপটও অনেকাংশে ভিন্ন ছিল। ভারত প্রকাশ্যে ওই নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নেয়। বিরোধীতা করেনি চীনও। দিল্লির মসনদে নরেন্দ্র মোদি বসার পর দৃশ্যপট বদলেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নেয়া থেকে বিরত দিল্লি। মমতার ঢাকা সফর সরকারের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে। চীনও সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ জনসমর্থনের দাবি করতো। কার্যত ভোটারবিহীন নির্বাচনে ১৫৪ আসনে ভোট ছাড়াই বিজয় সেই দাবি নিয়ে বিদেশীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দু’দফার ফলাফল এবং পরবর্তীতে ভোটকেন্দ্র দখলের চিত্রে বাংলাদেশে জনমত বোঝার সুস্পষ্ট মাপকাঠি পেয়ে যায় সারা দুনিয়া। কথাবার্তার এক পর্যায়ে কন্ডাক্টর আবার ভাড়া তুলতে এসে বললেন, স্যার কয়েকদিন আগে গাবতলীতে পুলিশ ধরেছিল। পিটুনির ভয়ে ৩ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছি। দীর্ঘ সময় ধরে সবার কথা শুনছিলেন এক যাত্রী। পেশায় এডভোকেট যাত্রীটি বললেন, ভাই পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় গেলে বুঝবেন দেশে কি হচ্ছে। যে পরিবারের কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি সে বুঝবে না দেশের প্রকৃত চিত্র। জমি জমা বিক্রী করে এনে গ্রেফতারকৃতদের আত্মীয়-স্বজনরা রিমান্ড ঠেকানোর চেষ্টা করছে। গ্রেফতারকৃত নেতাদের আদালতে আনা হলে তাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের মুখের দিকে তাকালেই দেশের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায়। বাস ততক্ষণের গুলিস্তান এসে গেছে। নামার সময় কানে এলো ‘এভাবে আর চলে না। আন্দোলনে ২০ দলীয় জোটের নেতাদের গ্রেফতারের নামে পুলিশ গ্রেফতার বাণিজ্য করছে। যারা রাজনীতি করেন না এবং পথেঘাটে গ্রেফতার হয়ে থানায় যান’ তারা রিমান্ডের কথা শুনলেই...।

Comments